বিদেশ থেকে বাংলাদেশে টাকা পাঠানোর সহজ মাধ্যম

আপনাদের মধ্যে অনেকেই জানতে চান, কিভাবে কম খরচে বিশ্বের যে কোনো দেশ থেকে বাংলাদেশে টাকা পাঠানো যায়। বিদেশ থেকে বাংলাদেশে টাকা পাঠানোর অনেক মাধ্যম রয়েছে। যেমন: বিকাশ, ব্যাংক ইত্যাদি। অনেকেই বিদেশ থেকে বাংলাদেশে বিকাশের মাধ্যমে টাকা পাঠিয়ে থাকে। কিন্তু বিকাশের মাধ্যমে বিদেশ থেকে টাকা পাঠালে খরচ বেশি পড়ে থাকে। যার ফলে অনেকেই কম খরচে বিদেশ থেকে বাংলাদেশে টাকা পাঠানোর অন্যান্য মাধ্যমগুলো খুঁজে থাকেন। তো চলুন জেনে নেই কম খরচে বিদেশ থেকে বাংলাদেশে টাকা পাঠানোর সহজ মাধ্যম গুলো নিয়ে।

বিদেশ থেকে বাংলাদেশে টাকা পাঠানো


বিদেশ থেকে বাংলাদেশে টাকা পাঠানোর সহজ মাধ্যম

১ঃ বিকাশ (bKash):

বিদেশ থেকে বাংলাদেশে টাকা পাঠানোর সবচেয়ে জনপ্রিয় মাধ্যম হচ্ছে বিকাশ। বিকাশের বিস্তৃতি এমন ভাবে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে যে আপনি বিশ্বের অনেক দেশ থেকেই বিকাশের মাধ্যমে সহজেই টাকা পাঠাতো পারবেন। বিকাশ মোবাইল ব্যাংকিং হওয়ার কারণে এর ক্যাশ আওট চার্জ একটু বেশি হয়ে থাকে। তারপরও এটি সহজ মাধ্যম হওয়ায় অনেকেই অল্প পরিমান টাকা পাঠানোর ক্ষেত্রে বিকাশ ব্যবহার করে থাকেন।

বিকাশের মাধ্যমে যেভাবে বিদেশ থেকে বাংলাদেশে টাকা পাঠাবেন:

  •  বিদেশে যেসব ব্যাংকের সাথে বিকাশের পার্টনারশিপ রয়েছে আপনি সেসব ব্যাংকের এমটি এজেন্ট বা Money Exchange এর সাথে যোগাযোগ করুন।
  • তারপর তাদের কে সবকিছু খুলে বলুন এবং আপনার অ্যাকাউন্ট নাম্বার সহ যাবতীয় তথ্য তাদের দিন।
  • আপনার তথ্য গুলো নিয়ে তারা টাকা পাঠানোর প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে দিবে।

এভবেই আপনি বিকাশের মাধ্যমে সহজেই বাংলাদেশে টাকা পাঠাতে পারবেন। 

২ঃ ওয়েস্টার্ন ইউনিয়ন (Western Union):

বিদেশ থেকে কম খরচে বাংলাদেশে টাকা পাঠানোর আরেকটি সহজ এবং জনপ্রিয় মাধ্যমে হচ্ছে ওয়েস্টার্ন ইউনিয়ন। ওয়েস্টার্ন ইউনিয়ন অ্যাপের মাধ্যমে আপনি সহজে এবং কোনো ঝামেলা ছাড়াই এক দেশ থেকে অন্য দেশে টাকা পাঠাতে পারবেন।

যেভাবে ওয়েস্টার্ন ইউনিয়নের মাধ্যমে টাকা পাঠাবেন:

  • আপনি যে দেশ থেকে ওয়েস্টার্ন ইউনিয়নের মাধ্যমে টাকা পাঠাবেন সে দেশের কারেন্সিকে আগে টাকায় রূপান্তর করুন।
  • যার কাছে টাকা পাঠাবেন সে তার যাবতীয় তথ্য প্রেরণ করে ওয়েস্টার্ন ইউনিয়নের দেওয়া লোকেশন থেকে টাকা তুলতে পারবে।

আরেকটি মজার বিষয় হচ্ছে বাংলাদেশের অনেক ব্যাংক ওয়েস্টার্ন ইউনিয়ন সাপোর্ট করে। যার ফলে আপনি এটি ব্যবহার করে সহজেই বিদেশে টাকা পাঠতেও পারবেন।

৩ঃ স্ক্রিল (Skrill):

আপনারা যারা ফ্রিল্যান্সিং করেন বা টুকটাক অনলাইনে কাজ করেন তারা হয়তো কখনো না কখনো স্ক্রিলের নাম শুনেছেন। বাংলাদেশে পেপাল না থাকার কারণে অনেক ফ্রিল্যান্সার স্ক্রিলের মাধ্যমে মার্কেটপ্লেস থেকে পেমেন্ট নিয়ে থাকে। আপনি আপনার মোবাইল ফোন দিয়েই স্ক্রিল অ্যাপ ব্যবহার করে বিশ্বের যেকোনো দেশ থেকে টাকা আনতে পারেন। এটি বিশ্বের প্রায় সকল দেশই সাপোর্ট করে।  এছাড়াও আপনার স্ক্রিল অ্যাকাউন্টের টাকা যেকোনো ব্যাংকে ট্রান্সফার করে নিতে পারবেন সহজেই।   

৪ঃ ইসলামী ব্যাংকের এমক্যাশ (mCash):

আমাদের দেশের সবচেয়ে বিশ্বস্ত এবং জনপ্রিয় ব্যাংক হচ্ছে ইসলামী ব্যাংক। আপনি ইসলামী ব্যাংকের এমক্যাশ অ্যাপের মাধ্যমে খুব সহজেই টাকা পাঠাতে পারবেন। এছাড়া আপনি বাংলাদেশের প্রায় সকল ব্যাংক ব্যবহার করেও বিদেশ থেকে বাংলাদেশে টাকা পাঠাতে পারবেন। তবে ইসলামী ব্যাংক আপনাকে যে সুবিধা দিবে তা অন্যান্য ব্যাংক থেকে নাও পেতে পারেন। তাই আপনার টাকার অ্যামাউন্ট যদি একটু বেশি হয় তাহলে আপনি কোনো মোবাইল ব্যাংকিং না ব্যবহার করে ইসলামী ব্যাংক ব্যবহার করতে পারেন।

৫ঃ জুম (Xoom):

বাংলাদেশে পেপাল না থাকলেও পেপাল দ্বারা নিয়ন্ত্রিত আরেকটি সার্ভিস Xoom চালু রয়েছে। পেপাল দ্বারা পরিচালিত হবার কারণে এটি অনেক নিরাপদ। আপনি সহজেই Xoom ব্যবহার করে খুব অল্প সময়ে মানি ট্রান্সফার করতে পারবেন।

৬ঃ ওয়াইজ (Wise):

মানি ট্রান্সফারের ক্ষেত্রে এটি খুব অল্প সময়ে অধিক জনপ্রিয়তা লাভ করেছে। এটি ২০১৯ সালে চালু হয়ে অল্প সময়ে প্রায় ২০ মিলিয়নের বেশি গ্রাহককে সেবা দিতে সক্ষম হয়েছে। এটি ব্যবহার করে সহজেই আপনি আপনার টাকা এক দেশ থেকে অন্য দেশে ট্রান্সফার করতে পারবেন।

বিদেশ থেকে কম খরচে বাংলাদেশে টাকা পাঠানোর এই মাধ্যমগুলোই সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয়। এই আর্টিকেলটি পড়ে উপকৃত হলে শেয়ার করতে ভুলবেন না। কোন মতামত থাকলে অনুগ্রহ করে কমেন্ট করে জানাবেন।

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url