বিকাশ অ্যাকাউন্ট নিরাপদ রাখতে যা করণীয় । how to secure bkash account

বিকাশ অ্যাকাউন্ট নিরাপদ রাখতে যা করণীয় । how to secure bkash account

বর্তমান সময়ের সবচেয়ে জনপ্রিয় মোবাইল ব্যাংকিং প্লাটফর্ম হচ্ছে বিকাশ। বাংলাদেশের অধিকাংশ মানুষ টাকা পাঠানোর সজহ মাধ্যম হিসেবে বিকাশ ব্যবহার করে থাকে। বর্তমানে বিকাশ এতটাই বিস্তৃতি লাভ করেছে যে, দেশের বাহির থেকেও টাকা পাঠাতে অনেকেই বিকাশ ব্যবহার করে থাকে। বিকাশে দিন দিন লেনদেন বা ব্যবহার কারীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ার ফলে কিছু কুচক্র বিভিন্ন পদ্ধতি অবলম্বন করে অনেকের বিকাশ অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা হাতিয়ে নেয়।

how to secure bkash account

যেভাবে প্রতারক বিকাশ থেকে টাকা হাতিয়ে নেয়ঃ

  • প্রথমে প্রতারক অনলাইন থেকে (123355 বা 33221) এরকম ফেইক নাম্বার সংগ্রহ করে। তারপর তারা বেশকিছু সচল বিকাশ নাম্বার সংগ্রহ করে যেগুলোতে নিয়মিত লেনদেন হচ্ছে। তারপর তারা সে সব নাম্বারে ফোন করে বিকাশের অফিসের লোক পরিচয় দিয়ে খুব কৌশলে গ্রাহকের সাথে কথা বলে। এভাবে কথা বলার পর তাদের ফোনে বিকাশের পিন রিসেট করার ভেরিফিকেশন কোড পাঠায়। অনেকেই সহজ সরল হওয়ার কারণে মনে করে তারা সত্যিই বিকাশের অফিসের লোক। যার ফলে তারা প্রতারক চক্রটিকে পিন কোড বলে দেয়। তারপর প্রচারক চক্র পিন কোড সহজেই পরিবর্তন করে অ্যাকাউন্ট নিজের দখলে নিয়ে ফেলে।
  • বিভিন্ন ব্যাংকের পরিচয় দিয়ে আপনাকে বিভিন্ন লোভনীয় অফার দিবে বা বলবে আপনি লটারি জিতেছেন। কিন্তু সে লটারির টাকা হাতে পেতে হলে সরকারকে কিছু পরিমাণ টাকা ট্যাক্স দিতে হবে। এখন যারা এইসব প্রতারণা বুঝতে না পারে তারা লটারির টাকা পাওয়ার জন্য বিকাশের মাধ্যমে ট্যাক্স দিতে চাইবে। এভাবে সে প্রতারণার শিকার হবে।
  • কোন কোন ক্ষেত্রে প্রতারকরা দরবেশ বাবার বেশে কল করে বিকাশ গ্রাহককে বলে, আমরা অমুক মাজার থেকে বলছি। আল্লাহ্ খুশি হয়ে আপনাকে লক্ষ টাকার সম্পদ দান করেছেন। এগুলো আমাদের কাছে গচ্ছিত আছে। আপনি এই টাকা পেতে চাইলে মোমবাতি, মসজিদের দান, অন্যান্য বাবদ ২০ হাজার টাকা লাগবে। এই টাকা গুলো আমাদের বিকাশ করে পাঠিয়ে দিলে আমরা আপনার বিকাশ নম্বরে উক্ত টাকা পাঠিয়ে দেব।

এছাড়াও আরও বিভিন্ন ভাবে বিকাশ থেকে টাকা হাতিয়ে নেয়।

বিকাশ অ্যাকাউন্ট নিরাপদ রাখতে করণীয়

বিকাশ অ্যাকাউন্ট নিরাপদ রাখার জন্য নিচের পদ্ধতি গুলো অবলম্বন করুন। আশা করি আপনার অ্যাকাউন্ট অনেকাংশে নিরাপদ হবে।

তাহলে চলুন এবার জেনে নেই কিভাবে বিকাশ অ্যাকাউন্ট নিরাপদ রাখা যায়

পিন কোড শেয়ার না করা:

আপনাকে যতই ফোন করে বলুক সে বিকাশের লোক, আপনার অ্যাকাউন্টের সমস্যা সমাধান করে দিবে। এর জন্য আপনার বিকাশের পিন কোড চাইবে। আপনি ভুলেও তাদেরকে পিন কোড দিবেন না। কারণ বিকাশ কখনোই আপনার পিনকোড বা বিকাশ থেকে পাঠানো OTP চাইবে না। তাই কখনোই কাউকেই আপনার বিকাশের পিনকোড বা OTP  দিবেন না।

সোশ্যাল মিডিয়া নিরাপদ রাখা:

সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে যেকোন সময় প্রতারণার শিকার হতে পারেন। অনেক প্রতারক আপনার সোশ্যাল মিডিয়ার অ্যাক্সেস নিয়ে আপনার ফেসবুক ফ্রেন্ডলিস্টের বন্ধুদের থেকে টাকা চাইবে। হয়তো সোশ্যাল মিডিয়ায় এমন অনেক পরিচিত ফ্রেন্ড রয়েছে যারা আপনার বিপদের কথা শুনে হাজার না লাখ টাকাও দিতে পারে। তাই সবসময় সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারে সতর্ক হোন। সকল পাসওয়ার্ড দুর্বল ব্যবহার না করে শক্তিশালী পাসওয়ার্ড ব্যবহার করুন। যাতে আপনার অ্যাকাউন্ট অন্য কেউ ব্যবহার করতে না পারে।

কখনোই কোনো লোভে না পড়া:

লটারি বা কোনো পুরষ্কারের লোভে পড়বেন না। লটারী বা এরকম কোন অফারের লোভ করবেননা। সহজ ভাবে ভেবে দেখবেন আপনাকে কেন অন্য কেউ টাকা দিবে। আপনি লটারীর টিকেট না কাটলেও আপনি কেন লটারী পাবেন?

বিকাশ এজেন্ট:

ক্যাশ ইন বা ক্যাশ আউট করার সময় কখনোই আপনার ফোনটি বিকাশ এজেন্টের হাতে দিবেন না। কারণ ক্যাশ ইন বা ক্যাশ আউট করার সময় আপনার ফোন তার দেখার প্রয়োজন পড়েনা। এতে করে তারা আপনার অ্যাকাউন্টের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সহজেই জেনে যাবে। তবে সব এজেন্ট যে প্রতারণা করবে তা কিন্তু নয়, পরিচিত এজেন্ট হলে সমস্যা নেই। শুধু মাত্র সতর্ক করার জন্য বলা হলো।

বন্ধুরা এই ছিল বিকাশ অ্যাকাউন্টের নিরাপত্তা বিষয়ক আর্টিকেল। যদি আর্টিকেলটি পড়ে বিন্দুমাত্র উপকৃত হোন তাহলে এই পোস্টটি শেয়ার করতে ভুলবেন না। যাতে অন্য কেউ জানার সুযোগ পায়।

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url